ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ঘাটাইলে কোটা সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ কালিহাতীতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে নাইট কেয়ার সেন্টার পরিদর্শন ও ষান্মাসিক সমন্বয় সভা বাসাইলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ ঘাটাইলে স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটার অভিযোগে মামলা, মামলা না তোলায় সন্ত্রাসী হামলা ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ টাঙ্গাইলে বিবেকানন্দ স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ঘাটাইলে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে নেমে বৃদ্ধের মৃত্যু ধনবাড়ীতে কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

ভূঞাপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ির বাউন্ডারী ভেঙে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

ভূঞাপুর প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার একটি রাস্তা নির্মাণে জোরপূর্বকভাবে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ির বাইন্ডারী ভেঙে দেয়া হয়েছে। এসময় ভাঙন ঠেকাতে গিয়ে দুই নারী আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, পৌরসভার পাটনিপাড়া এলাকার সুদেব দাসের স্ত্রী সুমিত্রা রানী দাস এবং তার বোন উলবী রানী দাস।

এদিকে জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তা না হলেও একটি বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার অনেকেই। এছাড়া রাস্তাটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর পৌরসভার পাটনিপাড়া এলাকায় গোবিন্দ মাঝির বাড়ি যাওয়ার ৮ফুট প্রসস্থের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য দুই লাখ ২ হাজার ২৪ টাকা ব্যয় ধরা হয়। তবে কত মিটার সড়কের কাজ হবে সেটা সিডিউলে উল্লেখ করা হয়নি। এরপর ৭ মার্চ কোটেশনের মাধ্যমে কাজ দেয়া হয় তানিম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে ২১ মার্চ বাড়ির মালিক চৈতন্য দাসকে না জানিয়ে তার বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে কাজ শুরু করে। এতে সিডিউল অনুযায়ী ৮ফুটের স্থলে ঠিকাদার কোথাও ৪ফুট কোথাও ৫ফুটের কাজ করে। শুধু তাই নয় তড়িঘড়ি করে রাস্তায় বালুর বদলে আবর্জনা ফেলে তার উপর সিসি ঢালাই দেয়া হয়েছে। রাস্তার ঢালাইয়ের সময় পৌরসভার প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পরিবারের বাড়ির বাউন্ডারী ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করার সময় বাঁধা দেয়ায় দুই নারীকে মারধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। পরে কাজ বন্ধ ও নিরাপত্তার জন্য ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরও জোরপূর্বক রাস্তার কাজ শেষ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার রাস্তার কাজের ওই সিডিউলে মেয়রের কোন স্বাক্ষর ছিল না। স্থানীয় কাউন্সিলর খন্দকার জাহিদ ও ঠিকাদার মিলে অন্যের বাড়ি বাউন্ডারী ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা করেছেন। যে রাস্তাটি করা হয়েছে সেটা অপ্রয়োজনীয়। যার বাড়ির জন্য রাস্তাটি করা হয়েছে সে আরো দুই পাশ দিয়ে বের হতে পারে। বহিরাগতদের দিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের উপর হামলা করা হয়েছে। কাউন্সিলর যেহেতু আওয়ামী লীগ নেতা তাই ভয়ে কেউ এগিয়ে যায়নি।

বাড়ির মালিক চৈতন্যের শশুর সহদেব দাস বলেন, মেয়ের জামাই প্রবাসী। বাড়িতে মেয়ে আর নাতি থাকে। হঠাৎ করে লোকজন এসে বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে ফেলে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে আমার স্ত্রী ও জামাইয়ের মা আহত হয়। পরে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন বিচার পাইনি। জোরপূর্বকভাবেই রাস্তা কাজ করে। হিন্দু মানুষ হওয়ায় আমরা বিচার পেলাম না।

ঠিকাদার লাকি বেগম বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে করা হয়েছে। কাউন্সিলর জাহিদের সহযোগিতায় কাজটি শেষ করা হয়। কাজ শেষ হলেও বিল এখনও পায়নি। কত মিটারের কাজ সেটা জানিনা তবে সিডিউলে উল্লেখ আছে। ৮ফুটের রাস্তা হলেও জায়গা না থাকায় পায়ে হাটার মত রাস্তা করা হয়েছে। সেখানে কোন পরিবহন চলাচল করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। একজন মহিলা সমস্যা তৈরি করেছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও সত্যতা পায়নি।

ভূঞাপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুকমল রায় বলেন, সিডিউল মোতাবেক রাস্তা করার জন্য ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুইগ্রুপের রাজনৈতিক সমস্যার কারণে সেখানে যেতে পারিনি। কিভাবে কাজ শেষ করেছে জানিনা। রাস্তার কাজের প্রসস্থ কম হতে পারে যেহেতু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে যেতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, সিডিউলে মেয়রের স্বাক্ষর না থাকলেও রেজুলেশনে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, রাস্তার বিষয়ে জানা নেই। সিডিউলে স্বাক্ষর হয়তো নেয়নি। কাজের সিডিউল দেখে বলা যাবে।

ভূঞাপুর থানার ওসি আহসান উল্ল্যাহ বলেন, আহত দুইজন নারী এসেছিল থানায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/২৭ মার্চ/এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

ভূঞাপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ির বাউন্ডারী ভেঙে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ: ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার একটি রাস্তা নির্মাণে জোরপূর্বকভাবে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়ির বাইন্ডারী ভেঙে দেয়া হয়েছে। এসময় ভাঙন ঠেকাতে গিয়ে দুই নারী আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, পৌরসভার পাটনিপাড়া এলাকার সুদেব দাসের স্ত্রী সুমিত্রা রানী দাস এবং তার বোন উলবী রানী দাস।

এদিকে জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তা না হলেও একটি বাড়িতে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার অনেকেই। এছাড়া রাস্তাটি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ভূঞাপুর পৌরসভার পাটনিপাড়া এলাকায় গোবিন্দ মাঝির বাড়ি যাওয়ার ৮ফুট প্রসস্থের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য দুই লাখ ২ হাজার ২৪ টাকা ব্যয় ধরা হয়। তবে কত মিটার সড়কের কাজ হবে সেটা সিডিউলে উল্লেখ করা হয়নি। এরপর ৭ মার্চ কোটেশনের মাধ্যমে কাজ দেয়া হয় তানিম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে ২১ মার্চ বাড়ির মালিক চৈতন্য দাসকে না জানিয়ে তার বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে কাজ শুরু করে। এতে সিডিউল অনুযায়ী ৮ফুটের স্থলে ঠিকাদার কোথাও ৪ফুট কোথাও ৫ফুটের কাজ করে। শুধু তাই নয় তড়িঘড়ি করে রাস্তায় বালুর বদলে আবর্জনা ফেলে তার উপর সিসি ঢালাই দেয়া হয়েছে। রাস্তার ঢালাইয়ের সময় পৌরসভার প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পরিবারের বাড়ির বাউন্ডারী ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করার সময় বাঁধা দেয়ায় দুই নারীকে মারধর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন। পরে কাজ বন্ধ ও নিরাপত্তার জন্য ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরও জোরপূর্বক রাস্তার কাজ শেষ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার রাস্তার কাজের ওই সিডিউলে মেয়রের কোন স্বাক্ষর ছিল না। স্থানীয় কাউন্সিলর খন্দকার জাহিদ ও ঠিকাদার মিলে অন্যের বাড়ি বাউন্ডারী ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা করেছেন। যে রাস্তাটি করা হয়েছে সেটা অপ্রয়োজনীয়। যার বাড়ির জন্য রাস্তাটি করা হয়েছে সে আরো দুই পাশ দিয়ে বের হতে পারে। বহিরাগতদের দিয়ে ওই বাড়ির লোকজনের উপর হামলা করা হয়েছে। কাউন্সিলর যেহেতু আওয়ামী লীগ নেতা তাই ভয়ে কেউ এগিয়ে যায়নি।

বাড়ির মালিক চৈতন্যের শশুর সহদেব দাস বলেন, মেয়ের জামাই প্রবাসী। বাড়িতে মেয়ে আর নাতি থাকে। হঠাৎ করে লোকজন এসে বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙে ফেলে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে আমার স্ত্রী ও জামাইয়ের মা আহত হয়। পরে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন বিচার পাইনি। জোরপূর্বকভাবেই রাস্তা কাজ করে। হিন্দু মানুষ হওয়ায় আমরা বিচার পেলাম না।

ঠিকাদার লাকি বেগম বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে করা হয়েছে। কাউন্সিলর জাহিদের সহযোগিতায় কাজটি শেষ করা হয়। কাজ শেষ হলেও বিল এখনও পায়নি। কত মিটারের কাজ সেটা জানিনা তবে সিডিউলে উল্লেখ আছে। ৮ফুটের রাস্তা হলেও জায়গা না থাকায় পায়ে হাটার মত রাস্তা করা হয়েছে। সেখানে কোন পরিবহন চলাচল করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। একজন মহিলা সমস্যা তৈরি করেছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও সত্যতা পায়নি।

ভূঞাপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুকমল রায় বলেন, সিডিউল মোতাবেক রাস্তা করার জন্য ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু দুইগ্রুপের রাজনৈতিক সমস্যার কারণে সেখানে যেতে পারিনি। কিভাবে কাজ শেষ করেছে জানিনা। রাস্তার কাজের প্রসস্থ কম হতে পারে যেহেতু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে যেতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, সিডিউলে মেয়রের স্বাক্ষর না থাকলেও রেজুলেশনে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ বলেন, রাস্তার বিষয়ে জানা নেই। সিডিউলে স্বাক্ষর হয়তো নেয়নি। কাজের সিডিউল দেখে বলা যাবে।

ভূঞাপুর থানার ওসি আহসান উল্ল্যাহ বলেন, আহত দুইজন নারী এসেছিল থানায়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/২৭ মার্চ/এম.টি